logo

আশুলিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আশুলিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

রাজধানীর সভার থানার আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার পাবনা ট্যাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রুমানা আক্তার রুমি (১৬) নামে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা-পুলিশ। ঘটনার পর থেকে কিশোরীর স্বামী বিল্লাল পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের ধারণা, স্বামী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও হাতের কব্জিতে কাটা চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন স্বামী।

নিহত রুমানা আক্তার রুমি গার্মেন্টস শ্রমিক মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে একই এলাকায় ক্যাপ ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। পরে স্বামী বিল্লাল এসে একই বাসায় থাকতে শুরু করেন। বিল্লালের বাড়ি রংপুরের পীরগাছায়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিল্লাল ও রুমানার বিয়ে হয়। এরপর রুমানা রংপুরে তার স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রুমানাকে বিভিন্ন সময় মারধর করেন বিল্লাল। তিন মাস আগে রুমানা আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকায় মায়ের কাছে চলে আসেন। 

রুমানার মা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর রুমানা একই এলাকায় একটি ক্যাপ ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। পরে বিল্লাল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রুমানাকে ফিরিয়ে নিতে পবনারটেকের বাসায় আসেন। তবে রুমানা যেতে না চাওয়ায় বিল্লালকে ওই বাসায় রেখে যায় তার পরিবার। এরপর থেকে বিল্লাল স্ত্রীর সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় থাকতে শুরু করেন।

গতকাল শুক্রবার রাতে মায়ের সঙ্গে ঘুমান রুমানা। আজ শনিবার ভোর ৬টার দিকে মা কাজে চলে যান। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রুমানার মা জানতে পারেন, রুমানাকে হত্যার পর বিল্লাল ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরে তিনি বাসায় এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের মা জাহানারা বেগম বলেন, রুমানা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বিয়ের পর থেকে বিল্লাল অনেকবার রুমানাকে মারধর করেছেন। আজকে মেরে বাসা থেকে টাকা, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা-পুলিশ। পরে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম সোহাগ বলেন, মরদেহের গলায় ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন ও দুই হাতের কব্জিতে কাটা দাগ রয়েছে। বিল্লালকে আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।