logo
Advertisement
এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ

ফুটপাতে ইউএনওর নির্মাণাধীন মার্কেট অপসারণের নির্দেশ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
ফুটপাতে ইউএনওর নির্মাণাধীন মার্কেট অপসারণের নির্দেশ
ফুটপাত দখল করে মার্কেট নির্মাণ ও ইনসেটে ইউএনও মো. পারভেজ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর রংপুরের মিঠাপুকুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে ইউএনওর নেতৃত্বে নির্মাণাধীন মার্কেট বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

Advertisement

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান। তিনি জানান, চিঠি পাওয়ার পরপরই মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের প্রাচীরসংলগ্ন ফুটপাতের একাংশে চারটি আমগাছ কেটে আধাপাকা দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ নিয়ে গত ৪ আগস্ট ‘মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন ইউএনও’ শিরোনামে এশিয়া পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প কমিটি ও দরপত্র ছাড়াই মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মৌখিকভাবে একটি নির্মাণ কমিটির কথা জানালেও এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা নথি দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্মাণ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা জনস্বাস্থ্যের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল ইসলামের নাম বলা হলেও তিনিও নির্মাণাধীন মার্কেটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এশিয়া পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কার্যালয় থেকে স্থাপনাগুলো অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৮ ফিরোজ আখতারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন কাশিপুর মৌজায় একটি আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কাশিপুর মৌজায় থানা ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ৬৪ একর জমির মধ্যে ০.৬৫৭৫ একর জমি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ে চলমান রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণে ওই জমির ০.৫৫৬৪ একর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ফুটপাত ও সীমানাপ্রাচীরের মধ্যবর্তী ০.১০১১ একর জমি অব্যবহৃত ছিল। সম্প্রতি ওই অংশে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অংশের স্থাপনাগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়।

মিঠাপুকুর বাজারের ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী বলেন, মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর তারা প্রতিবাদ করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন। তার দাবি, এর কারণে তারা উপজেলা প্রশাসনের বিরাগভাজন হন। সংবাদ প্রকাশের পর নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির আইনানুগ সমাধান দাবি করেন।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৮ ফিরোজ আখতার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ইউএনও নিজেই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাই তার বিরুদ্ধে আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি সংস্থা হিসেবে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও অপসারণের উদ্যোগ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমিটি এখনও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন। মহাসড়কের কাজ করার সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করবেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান বলেন, উপজেলা পরিষদের গেটসংলগ্ন নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে সাসেকের চিঠি পাওয়ার পর মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :