শহরে স্বাভাবিক, গ্রামে বিভ্রাট

জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের তুলনায় বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামে। একইভাবে শেরপুর জেলায় বর্তমানে চাহিদার চেয়ে পাঁচ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শেরপুর জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। জেলা সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে একটানা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে না। তবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে।
জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শেরপুরে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৫৩ মেগাওয়াট। সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ মেগাওয়াটে। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৫ মেগাওয়াট।
শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুণা এলাকার কৃষক হাসেম মিয়া বলেন, ‘বারবার কারেন্ট আইতেছে-যাইতেছে। ক্ষেতে সেচ দিতে পারছি না। ফসল উৎপাদনে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।’
একই এলাকার কৃষক আব্দুল মিয়া বলেন, ‘রাতে সেচ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আমরা কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
একই উপজেলার রাণিশিমুল এলাকার শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘রাতে পড়তে বসলে বার বার বিদ্যুৎ চলে যায়। মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আগে এমনভাবে বিদ্যুৎ যায়নি। এখন তো বার বার যাচ্ছে, আবার বার বার আসছে।’
একই এলাকার শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, পরীক্ষার সময় এমন লোডশেডিং বড় সমস্যা তৈরি হবে। এখন তো অনেক সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেরপুর জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, পিডিবির আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আগের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় আমাদের পিডিবির লাইন নেই। সেখানে পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। সেসব জায়গায় হয়তো সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।