ইতালিতে খুন হওয়া পরিবারটি আগেই পেয়েছিল হত্যার হুমকি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
ইতালিতে খুন হওয়া পরিবারটি আগেই পেয়েছিল হত্যার হুমকি
হামলায় নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল ও তার কন্যাসন্তান আরিশা। গুরুতর আহত বড় ছেলে অয়ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি : সংগৃহীত

ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাদের পাঁচ বছর বয়সি কন্যাসন্তান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের বড় ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতদের পরিবার। তবে ইতালীয় পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

Advertisement

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তার স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। আহত বড় ছেলে আমির হোসেন অয়নকে (২০) উদ্ধার করে রোমের জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনের মরদেহ বর্তমানে রোমের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়ায় নিহতদের বাড়িতে মাতম চলছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন কামাল উদ্দিন বাবুল। প্রায় দুই বছর আগে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নিয়ে যান।

নিহতের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ দাবি করেন, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রায় সাত মাস আগে কামাল পরিবারসহ দুই মাসের ছুটিতে দেশে এলে একটি অজ্ঞাতনামা চিঠির মাধ্যমে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’ সে সময় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বজনদের আহাজারি। ছবি : এশিয়া পোস্ট
স্বজনদের আহাজারি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, রোমে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এ দাবির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা সরকারের কাছে দ্রুত সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইতালি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইতালি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে রোম পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (স্কোয়াড্রা মোবাইল) ও ফরেনসিক দল তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলাকারী পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারে। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিষয় :নোয়াখালী