চট্টগ্রামে ২৬ আগস্ট ৫৫তম জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রামে এবং এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল মানুষের সমাগমে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় আয়োজক সংস্থা আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বিশ্ব বিখ্যাত এই জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশিন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাহেবজাদা হজরত সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ (ম.জি.আ.)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৬ আগস্ট সকাল আটটায় ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে জুলুস শুরু হবে। এরপর বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা নগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামেয়া ময়দানে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে এক বিশাল মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মনজুর আলম।
তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত এই শোভাযাত্রা আজ চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এর শরিয়তসম্মত ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্য বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
জুলুস সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি পুলিশ প্রশাসন ও আনজুমানের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া দিকনির্দেশনা মেনে চলার জন্য সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান।
জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয়েছে সুসজ্জিত তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন। সড়কের বিভাজক ও আইল্যান্ডগুলোতে শোভা পাচ্ছে জাতীয় পতাকা ও আনজুমানের পতাকা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে জামেয়া মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দিন সাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারি কামরুদ্দিন সবুর, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি গোলাম মহিউদ্দিন, ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার এবং মিডিয়া সাব-কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ তৈয়ব আলীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।



