বাসচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, বাসে আগুন দিল জনতা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের চাপায় বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. শাহজাহান (৫০) উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করবল্লা টিলা এলাকার মালেক শাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে ও নিহত মোহাম্মদ আরিফ (১৮) তার ছেলে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি বিআরটিসি বাস প্রথমে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর আগেই বাসটির অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে তারা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
