চুয়াডাঙ্গায় চাহিদার চেয়ে ৭১ হাজার গবাদিপশু বেশি

ঈদুল আজহা ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুত রয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ২৪৭টি গবাদিপশু। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৩১ হাজারের মতো। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু বেশি রয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য এলাকাতেও কোরবানিযোগ্য পশু সরবরাহের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার চার উপজজেলায় ছোট-বড় অনেক খামারে লালন-পালন করা হয়েছে দেশীয় জাতের গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। এর মধ্যে প্রায় ২০টি বড় গরুর খামার রয়েছে। পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না খামারিদের মধ্যে।
বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি বাড়তি খরচ করে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। খড়, ভুসি, ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পরিচর্যায়ও ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। বাজারে ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
জীবননগর উপজেলার খামারি জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটা গরু বড় করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়। খাবার, ওষুধ সবকিছুর দাম বেড়েছে। আমরা চাই বাজারে যেন ন্যায্য দাম পাই। তা না হলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
আলমডাঙ্গার খামারি সাগর বলেন, দেশীয় খামারিরা অনেক কষ্ট করে পশু পালন করে। কিন্তু অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না।
চুয়াডাঙ্গা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সাহাবুদ্দিন জানান, জেলায় যে পরিমাণ কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে তাতে অর্ধলাখের বেশি উদ্বৃত্ত থেকে যেতে পারে। দাম নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। চাহিদার ওপর নির্ভর করছে বাজার। উদ্বৃত্ত পশু নিয়ে শঙ্কা নেই। যেগুলো উদ্বৃত্ত থেকে যাবে, তা আশপাশের জেলায় বিক্রি করা হবে।
সরকারি হিসাবে–জেলার চারটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৪০৪টি গরু, এক লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল, দুই হাজার ৫২৪টি ভেড়া এবং ১১৬টি মহিষ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, খামারিদের প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার খামারিরা ভালো দাম পাবেন।


