হেলিকপ্টারে ফিরলেন মেয়র প্রার্থীর ভাই, ফুল নিয়ে হাজির ওসি

কুষ্টিয়ার খোকসায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের এক মেয়র প্রার্থীর ভাই হেলিকপ্টারে করে এলাকায় ফেরার পর তাকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তার ফুল দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে খোকসার জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে।
ওই মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন নাসির উদ্দিন শেখ। তিনি খোকসা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর রুমীপাড়ার বাসিন্দা এবং আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা রবিন রায়হান জসিমের ছোট ভাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে নেমে নাসির উদ্দিন শেখ মাঠে আসার পর সেখানে মানুষের ভিড় জমে। এ সময় খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেনকে সেখানে দেখা যায়। ভিডিওতে তাদের ফুল নিয়ে নাসির উদ্দিন শেখের কাছে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন মেয়র প্রার্থীর নিকটাত্মীয়কে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা নির্বাচনের আগে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা কেন সেখানে ছিলেন এবং ফুল দেওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন শেখ সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এবং জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সিঙ্গাপুর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত নিজ এলাকায় ফিরতে তিনি হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। পরে হেলিকপ্টারটি তাকে নিয়ে খোকসার উদ্দেশে রওনা হয়ে জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আরও দুই ব্যবসায়ী অংশীদার ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
হেলিকপ্টার আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই বিদ্যালয় মাঠের আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। হেলিকপ্টার অবতরণের পর শত শত মানুষ সেটি দেখতে মাঠে জড়ো হন। অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা ফুল দিতেও পারি না। দিইও নাই। যাদের লোক, তারাই ফুল দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তার জন্য গিয়েছিলাম।’
মেয়র প্রার্থী রবিন রায়হান জসিম বলেন, ‘ওসি কাউকে ফুল দেননি। ফুল পড়ে যাচ্ছিল কাদার মধ্যে। সেটা উনি ধরাধরি করেছেন।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আগে ভালো করে জেনে নেই। পরে বিস্তারিত বলছি।’



-b3c7e2.jpg)