নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন/পুলিশকে জড়িয়ে এমপির হুঁশিয়ারি, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন নিয়ে পুলিশকে জড়িয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের হুঁশিয়ারি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের এই সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনকারীদের প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেউ অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এই জনপ্রতিনিধি।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে স্থানীয়দের উদ্দেশে হাসান রাজীব বলেন, “যখন পাথর তুলবে, এক্কেবারে মসজিদে আজান দিয়া ওইগুলাক ধরবেন, জনগণ বাহির হয়া ধরবে। তারপর আমাক ফোন দিবেন, দেখি কোন পুলিশ আসি ওমাক (ওদের) সাহায্য করে।”
তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “জনগণকে এখন রেডি (প্রস্তুত) হইতে হবে, তা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। ওরা দুইটা–দশটা পুলিশকে লাইনঘাট করিয়া–টরিয়া খায়াদায়া ঠিক থাকবে, ক্ষতি হয়া যাবে সাধারণ মানুষের।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের ধরলা সেতু এলাকায় যান সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান। তখন স্থানীয়রা তার কাছে নদী থেকে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ করেন। গ্রামবাসী দাবি করেন–পুলিশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ কারবার চলে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন হাসান রাজীব।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান জানান, ধরলা সেতু এলাকায় গেলে স্থানীয় জনগণ নদীর পরিবেশ ও সেতু রক্ষার স্বার্থে বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ জানান। তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সোচ্চার হতে বলেছেন।
তিনি বলেন, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মূলত গভীর রাতে বা ভোরের দিকে চরাঞ্চলের নদী থেকে চোরাই পথে পাথর তোলা হয়। পুলিশের উপস্থিতির টের পেলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো হচ্ছে।
