logo

থেমে নেই জীবনযুদ্ধ, তাদের প্রশ্ন—শ্রমিক দিবস কী

থেমে নেই জীবনযুদ্ধ, তাদের প্রশ্ন—শ্রমিক দিবস কী

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামের কৃষি শ্রমিক জমির আলী ও সুরুজ জামাল। গ্রামের আর ১০ জন শ্রমিকের মতো ইসলামপুর গ্রামে হাওরে ধান কাটছিলেন। কাজের ফাঁকে একে অন্যের সঙ্গে গল্প করছিলেন।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে এই দৃশ্য দেখার পর এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলে জবাব আসে, শ্রমিক দিবস আবার কী। এটা কোন দিন হয় জানি না। আমরা গরিব মানুষ, প্রতিদিন কাজ করি। 

শ্রকি জমির আলী বলেন, ‘ইতা দিবস-টিবস জানার সময় আমরার নাই। কোনো সময়ই এই দিবস পালন করছি না।’

সুরুজ জামাল বলেন, ১০-১৫ বছর ধরে বৈশাখ মাসে হাওরে ধান কাটার কাজ করি। এই মাসে শ্রমিক দিবস পালন করা হয় জানতাম না। আমরা কাজ করে সংসার চালাই, কোন দিবস পালন করার সময় আছে আমাদের?

১ মে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস নামে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠন রাজপথে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। শহরে মহান দিবস পালন করা হলেও সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের অধিকাংশ কৃষি শ্রমিক জানেন না মে দিবস কবে, মে দিবসের গুরুত্ব কী?

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা পাকা ধান কাটছেন। কয়েক দিনের ভেজা ও কাটা ধান মাড়াইয়ের জন্য খলায় নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ খলায় স্তূপ করে রাখা ভেজা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন।

দিরাই উপজেলার রফিনগর গ্রামের কৃষি শ্রমিক আব্দুর রহিম জানান, বৈশাখ মাসে হাওর থেকে ধান তোলার সময় কোনো ফুসরত নেই। হাওরের বাঁধভাঙার ভয় এবং শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, এই সময়ে আমরা দিন-রাতে কাজ করি। হাওরে কখনো মে দিবস পালন করা হয় না। হাওরের কৃষি শ্রমিকরা মে দিবস কী জানেন না।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষি শ্রমিকরা সংগ্রামী। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই তারা হাওর থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। মহান মে দিবসেও হাওরে কৃষি শ্রমিকদের বসে থাকার সুযোগ নেই। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন; যার বাজার মূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৭৩৯ হেক্টর। হাওরের বাইরে কাটা হয়েছে ১২ হাজার ২২৩ হেক্টর। গড়ে জেলায় ধান কাটা হয়েছে ৫৫ ভাগ। অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাওরে ১৩ হাজার ৯৩ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দুই হাজার ৪৮ হেক্টর।