অবশেষে বাবার কোলে শিশু মেহেদি

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি। রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়ার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ৭ বছরের শিশু মেহেদি। এরপর পথ হারিয়ে চলে যায় কমলাপুর রেল স্টেশনে। সেখান থেকে মেহেদি ওঠে পড়েন কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনে। পরদিন ভোরে পৌঁছে কক্সবাজার। এরপর উপায় না পেয়ে মিশে যায় ভ্রাম্যমাণ শিশুদের দলে।
ঘটনার পরিক্রমায় সেসব শিশুদের সাথে মেহেদি পৌঁছে যায় সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে। একপর্যায়ে টেকনাফে কান্নারত শিশুটিকে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে টেকনাফ থানার পুলিশ। তবে, বাড়ির ঠিকানা ও কারও ফোন নম্বর দিতে পারেনি মেহেদি। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে মেহেদিকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কক্সবাজারের ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পাঠিয়ে দেয়।
দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর পিতা তাইজুদ্দিন ও চাচা সাইফুল হক গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এসেছিলের কক্সবাজারের ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে’। শিশুটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিশুর পিতার সাথে আলাপ করে মিলেছে এসব তথ্য।
সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্যারা কাউন্সেলর সাবিনা ইয়াসমিন জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রই শিশুটির পরিবার হয়ে উঠে। এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে নতুন জীবন গড়তে সব ব্যবস্থা থাকলেও পরিবারের জন্য ব্যাকুল ছিল মেহেদি।
তিনি জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মাধ্যমে শিশু সহায়তার নম্বর ১০৯৮-এ ফোন করে ছবি-ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে মেহেদির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। যোগাযোগের মাধ্যমে মেহেদির পিতা ও চাচা ২৩ ফেব্রুয়ারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসেন। সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুবই খুশি মেহেদির পিতা ও চাচা।
শিশুটির বাবা তাইজুদ্দীন জানান, গত এক বছর ধরে ছেলেকে নানাভাবে সন্ধান করেও পাইনি। আশা ছেড়ে দিলেও ছেলে পাওয়ার একটা আকুতি ছিল। পরে সহায়তা নম্বর ১০৯৮-এর মাধ্যমে ছেলেকে পেয়েছি।