মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাঞ্চল থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে এল জ্বালানি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে কোনো জাহাজ বাংলাদেশে আসেনি। পারস্য উপসাগরে তেল-গ্যাসবাহী দুটি বড় বাংলাদেশি ট্যাংকার আটকা পড়ে আছে। এরমধ্যে এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের ওমান উপসাগর-সংলগ্ন বন্দর থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে এসেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সীতাকুণ্ডে খালাস সম্পন্ন করে জাহাজটি পুনরায় গন্তব্যে ফিরে গেছে। রোববার (২৯ মার্চ) সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ওমান থেকে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ টন এলপিজি নিয়ে আসে ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের ট্যাংকারটি। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড এই এলপিজি আমদানি করেছে।
জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি সি-সাইড ট্রেডার্সের কর্ণধার হুমায়ুন কবীর জানান, ট্যাংকারটি মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওমানের দুকম বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। পথে শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাস করে সীতাকুণ্ডে পৌঁছায়। গত শুক্রবার এলপিজি খালাস শেষে জাহাজটি পুনরায় গন্তব্যে ফিরে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে ইরানি বাহিনী। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল বার্গেনিং ফোরাম (IBF) এই অঞ্চলকে ‘যুদ্ধ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত ৩ মার্চ ওমান উপকূলে ড্রোন হামলার ঘটনা সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে তেল-গ্যাসবাহী দুটি বড় বাংলাদেশি ট্যাংকার আটকা পড়ে আছে।
মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, ইরানের অনুমতি ছাড়া পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ হয়ে বর্তমানে কোনো জাহাজ আসার সুযোগ নেই। যুদ্ধ এলাকা হওয়ার কারণে বীমা কোম্পানিগুলো ‘ওয়ার প্রিমিয়াম’ বাড়িয়ে দিয়েছে; ফলে পণ্য পরিবহন খরচ এখন আকাশচুম্বী।