বরিশালে অফিস থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল নগরীর প্যারারা রোড এলাকায় দৈনিক সমকালের বরিশাল অফিস থেকে পত্রিকাটির সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে অফিসের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিসের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী বলেন, পুলক দার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। সমকাল ছাড়লেও নিয়মিত আমার সাথে যোগাযোগ হতো। এরপর প্রায় সময়ই অফিসে এসে পত্রিকা পড়তেন। একদিন সময় কাটে না জানিয়ে নিয়মিত পত্রিকা পড়তে অফিসে আসতে চান বলে জানান। এরপর আমার কাছে চাবি চান। বিষয়টি ঢাকা অফিসকে জানিয়ে পুলক দাদাকে চাবি দেই।
তিনি আরও বলেন, গত এক মাসের বেশি সময় তিনি অফিসে আসেননি। আজ শুক্রবার পৌনে তিনটার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চান, কই আছি। জানালাম ৪টার দিকে আসব। পরে আমি ৬টার দিকে অফিসে আসি। আমার অফিসের পিয়ন সকাল ১০টায় পেপার রেখে চলে যায়, শুক্রবারে সে আর আসে না। সন্ধ্যায় অফিসে এসে দেখি ভেতর থেকে অফিস লক করা। এরপর দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি পুলক দাদার মরদেহ দড়িতে ঝুলছে। পরে দৌড়ে বাড়িওয়ালা ও ওপরের তলায় থাকা যুগান্তর অফিসে যাই। এরপর পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলক চ্যাটার্জির ভাই দুলাল ভট্টাচার্য বলেন, আমার ভাই খুব ভীতু ছিল। একটা ইনজেকশন দিতে গেলেও লাফালাফি করত। তার মরদেহ যেভাবে উদ্ধার করা হয়েছে তা দেখে স্বাভাবিক মনে হয়নি। সে গলায় দড়ি দেওয়ার মানুষ না। তার মরদেহ যেভাবে উদ্ধার করা হয়েছে তা স্বাভাবিক নয়। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, সবার উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রকৃত ঘটনা কী তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। আশা করছি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত আমরা উদ্ঘাটন করতে পারব। সিআইডির টিম কাজ করছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।
পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু নোট পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

