শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি রাশেদ খাঁনের

শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দাবি জানান।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-শিবির এক দিকে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ করবে, আর অন্য দিকে ওই হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে কাজ করতে দেবে এটি সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা। জামায়াতের এই দ্বিমুখী অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো মামলায় আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আলাদা হলেও একটি রাজনৈতিক দলের নীতির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের অবস্থান এবং একই মামলায় শিশির মনিরের আসামিপক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দলটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে, নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষাজীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আকতারুজ্জামান আক্তার।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুর রহমান শেখর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নাহিদ আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে আদর্শ ভবিষ্যৎ গঠনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
