logo

শেষ বয়সে শান্তিতে ঘুমাতে চান ৮০ বছরের বৃদ্ধ বিনোদ

শেষ বয়সে শান্তিতে ঘুমাতে চান ৮০ বছরের বৃদ্ধ বিনোদ
ছবি: এশিয়া পোস্ট

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, চোখে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস আর বুকভরা অসহায়ত্ব নিয়ে দিন কাটছে ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধ বিনোদ বিশ্বাসের। যে বয়সে সন্তানের স্নেহ আর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা, সেই বয়সে বাগেরহাটের এই বৃদ্ধের ঠিকানা এখন মুরগির খোঁয়াড়ের মতো একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘর। প্যারালাইসিস শরীর নিয়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে এবং অনাহারে কাটছে তার প্রতিটি মুহূর্ত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই অসহায় বৃদ্ধের এখন একমাত্র আকুতি—মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয় আর দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা।

বিনোদ বিশ্বাসের বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোড়ামারা গ্রামে। একসময় পাঁচ সন্তান নিয়ে বিনোদ বিশ্বাসের সংসার ছিল। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি প্রায় একা। ২০ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই একপ্রকার নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন তিনি। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে দুই ছেলে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশে থাকা আরেক ছেলে মাঝে-মধ্যে খোঁজ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অধিকাংশ সময়ই অন্যের সহানুভূতি ও গ্রামের মানুষের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন তিনি।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও মানবেতর এক পরিবেশে বাস করছেন বিনোদ বিশ্বাস। এক হাত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় কোনো কাজ করার সামর্থ্য নেই তার। যেদিন কোনো প্রতিবেশী খাবার দিয়ে যান, সেদিন দু-মুঠো অন্ন জোটে, অন্যথায় কাটাতে হয় অভুক্ত।

বিনোদ বিশ্বাসের এই অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরে প্রতিবেশী মামুন শেখ ও সাথী বেগম বলেন, চাচাকে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে দেখি। অসুস্থ শরীর নিয়ে মুরগির খোপের মতো ঘরে খুব কষ্টে দিন কাটান। একটি নিরাপদ ঘর ও নিয়মিত সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে শেষ বয়সে তিনি অন্তত একটু স্বস্তি পেতেন।

গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল হাওলাদার জানান, প্রতিবেশীরা সাধ্যমতো সাহায্য করলেও নিয়মিত তার খাবার ও থাকার দায়িত্ব নেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

খানজাহান আলী কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান সাগর বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন মানবেতর জীবনযাপন করবেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষদের পাশাপাশি প্রশাসনেরও তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। একটি নিরাপদ ঘর ও নিয়মিত সহায়তা তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

কোড়ামারা ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মল্লিক বলেন, বিনোদ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার পাশে দাঁড়ালে তিনি কিছুটা স্বস্তিতে জীবন কাটাতে পারবেন।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিনোদ বিশ্বাসের চাওয়া খুব বেশি নয়—মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ ঘর আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।