ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে গাইবান্ধার চাষিরা

উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা গাইবান্ধার সাত উপজেলায় এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে, কোথাও আধাপাকা। এমন সময়েই দেখা দিয়েছে ডিজেল সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। ফলে সেচে বিঘ্ন ঘটায় অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনমতো পানি দিতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে সদর, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কোথাও পানির অভাবে ধান শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতেই প্রতিকূল আবহাওয়া চাষে বাধা সৃষ্টি করে। তীব্র শীত ও টানা কয়েক দিন সূর্যের আলো না থাকায় বীজতলার চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে।
সাঘাটা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে ২০০-৩০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন ৫০০-৬০০ টাকাতেও মিলছে না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুকসোনাই ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মঈন উদ্দিন বলেন, নদীতীরবর্তী চরের জমিতে পানির অভাবে ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে, আবার বাজারেও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না।
পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, গত এক দশকে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়, কিন্তু এবার সেচ সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাঘাটার সোনাতলা বাজারের ডিজেল বিক্রেতা সাহেদুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ দিন ধরে ডিপো থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
মানিকগঞ্জ বাজারের সেচ পাম্প মালিক সাহাদুল ইসলাম মণ্ডল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালাতে বারবার সমস্যা হচ্ছে। আগে একবার চালু করলে ৬-৭ ঘণ্টা চলত, এখন ঘন ঘন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. রোস্তম আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সাপ্তাহিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানির ঘাটতি কিছুটা পূরণ হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে বোরো ধানের ফলন আশানুরূপ হতে পারে।