কর্মস্থলে দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ

কর্মস্থলে প্রায় দুই বছর ধরে অনুপস্থিত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম। কর্মস্থলে না এলেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরওয়ার আলম জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকা অবস্থায় বেতন-ভাতা উত্তোলনের খবরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৭ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ পান শরওয়ার আলম। পরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ২০১২ সালে অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রভাষক থেকে অধ্যক্ষ হতে ১২ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও তিনি মাত্র ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় পদটি দখল করেন।
গত বছরের ২৮ আগস্ট তার নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন ইউএনও নূর-ই আলম সিদ্দিকী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস পর বরখাস্তের মেয়াদ শেষ হলে তিনি পুনরায় পূর্ণ বেতন পেতে শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, বেতনের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘উৎকোচ’ দিয়ে তিনি এই সুবিধা নিচ্ছেন।
অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশৃঙ্খলার কারণে প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।
শিক্ষার্থী মাজেদুল জানায়, অধ্যক্ষ না এসেও বেতন পাচ্ছেন দেখে অন্য শিক্ষকরাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। দু-একটি ক্লাস ছাড়া আর কিছু হয় না।
অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, সবাই এখন লুটেপুটে খেতে ব্যস্ত। পড়াশোনার দিকে কারও নজর নেই। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তমিজার রহমান বলেন, অধ্যক্ষ স্যার আন্দোলনের শুরু থেকেই নেই। আমরা জানিও না তিনি বেঁচে আছেন কি না। তদন্ত কমিটির ভয়েই হয়তো তিনি আসছেন না।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি বেতনের কাগজে সই করি। সরকার বেতন দিচ্ছে, তাই আমি দিচ্ছি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেতনের শিট প্রস্তুত করে দেন, আমি শুধু অনুমোদন করি। এখানে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। পলাতক অধ্যক্ষ পুনরায় যোগদানের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছেন, যা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।