বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চারতলা ভবন থেকে পড়ে রংমিস্ত্রির মৃত্যু

ঝিনাইদহ শহরে একটি ভবনে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে তৈয়ব আলী (৩৫) নামে এক রংমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। পাঁচতলা ভবনের চারতলার বাইরের দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় রঙের কাজ করছিলেন তিনি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তৈয়ব আলী সদর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দড়ির মই ঝুলিয়ে রঙের কাজ করছিলেন দুইজন শ্রমিক। ভবনের তৃতীয় তলার মাত্র দেড় ফুট দূরত্ব দিয়ে ওজোপাডিকোর হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি অতিক্রম করেছে। ঘামেভেজা শরীরে কাজ করার সময় তৈয়ব আলী ওই লাইনের ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে অসাবধানতাবশত সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আশপাশের দোকানদাররা ছুটে আসেন এবং চারতলার ছাদ থেকে রঙের বালতি বাঁধার দড়ি দিয়ে তাকে ওপরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পুনরায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর ছিটকে পড়েন এবং সেখান থেকে নিচে সড়কের ওপর আছড়ে পড়েন। এতে তার মাথা ফেটে প্রচণ্ড রক্তপাত শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের সহকর্মী নাইমুল ইসলাম জানান, আমরা দুজন সকাল থেকে ভবনের সামনের অংশে কাজ করছিলাম। কাজের সময় আমাদের কোনো সেফটি বেল্ট ছিল না। ভবনের একেবারে পাশ দিয়েই হাইভোল্টেজ লাইনটি যাওয়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব বলেন, তৈয়ব আলীকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।