অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ইতালি: রাষ্ট্রদূত

অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ইতালি আরও কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেছেন, মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে প্রবেশের পরিবর্তে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে চায় তার দেশ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাদারীপুরের মোস্তফাপুরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও টেকসই পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের ৬১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বিদেশে যাওয়াই জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেও সম্মানজনক জীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই এ বিষয়গুলোও মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালের ওপর নির্ভর না করে সরকারি সংস্থা ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসনসংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমাতে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি লরা কার্তানিয়া ইয়াখ, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার নূরুল কাদের, ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জুসেপ্পে দি জোভান্নি, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান, ‘প্রবাস কথা’র সম্পাদক মনজুরুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রাসেল।
