logo

কক্সবাজারে হাসপাতালে লিফটের নিচে নিখোঁজ নারীর মরদেহ

কক্সবাজারে হাসপাতালে লিফটের নিচে নিখোঁজ নারীর মরদেহ

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিখোঁজ হওয়া এক নারীর মরদেহ ৪ দিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তল্লাশি চালিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ স্বজন ও সেবাপ্রার্থীদের।

নিহত কোহিনুর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টাইপালং এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত ৩ মার্চ কহিনুর আক্তারের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে মরিয়ম আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে দুজনই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনুর আক্তার ওষুধ আনার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় তার শ্বশুর আলী আকবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজের সময় কোহিনুর আক্তার থ্রিপিস ও কালো রঙের বোরকা পরিহিত ছিলেন। তার গলায় স্বর্ণের একটি নেকলেস ছিল। তিনি শারীরিকভাবেও সুস্থ ছিলেন।

নিহতের ভাশুরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার চাচিকে ৪ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। নানাভাবে আমরা তাকে খুঁজছিলাম। র‍্যাব-পুলিশকে জানানো হয়েছিল। আজ হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, নিখোঁজের দিন তিনি চারতলার লিফটে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। লিফটে দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং নিও এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ আসার পর তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়। কীভাবে তিনি সেখানে পড়ে গেলেন বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে-এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে পুলিশকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে।’

এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর সরকারি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সেবা নিতে আসা কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীর বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চারদিন ধরে একটি মানুষের মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে ছিল, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতেই পারেনি। এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার শামিল।’

চিকিৎসা নিতে আসা খরুলিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। লিফটের ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। পরে লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কোহিনূর আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে। লিফটটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল কিনা কিংবা অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা-সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’