Advertisement

ধর্ষণ মামলায় চার মাস জেল খেটেছেন ছালিম, পাল্টা মামলায় মা-মেয়ের সাজা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কক্সবাজার
ধর্ষণ মামলায় চার মাস জেল খেটেছেন ছালিম, পাল্টা মামলায় মা-মেয়ের সাজা
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের রামুতে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে মামলা করার দায়ে ছকিনা খাতুন (৪১) নামের এক নারীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার ১৪ বছর বয়সি মেয়ে টুম্পা মনিকে দেড় বছর আটকাদেশ, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ -এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মা ও মেয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় পাঁচজনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় তিনজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডিত ছকিনা খাতুন ও তার মেয়ের নাম টুম্পা মনি রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদের স্ত্রী-সন্তান।

মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শওকত বেলাল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি ছালিম উল্লাহ (৬৭) বিরুদ্ধে রামু থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ছকিনা খাতুন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা মামলাটি জিআর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরদিন ছালিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।

ছালিম উল্লাহ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় একটি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি। মামলাটি করার পর তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেনি পিতৃত্ত

মামলাটির তদন্ত চলাকালে আদালতের নির্দেশে ছকিনা খাতুনের সন্তানের সঙ্গে ছালিম উল্লাহর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ২০২০ সালের ১ জুলাই পাওয়া ফরেনসিক প্রতিবেদনে ছালিম উল্লাহ ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে পুলিশি তদন্তেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল আদালত ছালিম উল্লাহকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

এরপর ছালিম উল্লাহ অভিযোগ করেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। এ অভিযোগে ২০২২ সালের ২৫ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ ছকিনা খাতুনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১৪৫/২৩ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলায় ছকিনা খাতুন ও টুম্পা মনি ছাড়াও আনোয়ার বেগম (২৬), মোহাম্মদ (৫০), মো. শহীদুল্লাহ (৩০), মো. সহিদুল্লাহ (২৮) ও এরশাদ উল্লাহ (২৫)কে আসামি করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা সবাই দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ছালিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে তাকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। এ অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭(২) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, এই মামলায় সাত আসামির মধ্যে ছকিনা খাতুন ও তাঁর মেয়ে টুম্পা মনির বিরুদ্ধে বিচার শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। অপর তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছালিম উল্লাহ বলেন, মিথ্যা মামলার কারণে আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই রায়ে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।