মাথার ওপরে বিপদ, হেলমেট পরে চলছে কাজ

ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকি এড়াতে মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে হেলমেট ছাড়াই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ভবনের ভেতরে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন। এমনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনটিতে প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে শতাধিক মানুষ আসেন। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল, আবার কোথাও ছাদের পলেস্তারা ঝুলে আছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গত রোববার (৪ অক্টোবর) পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও ছাদে ফাটল, আবার কোথাও ঝুলে আছে পলেস্তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে পরিষদে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ ভবনের হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের ছাদ ও দেয়ালের যে অবস্থা, তাতে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। মাথার ওপর কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার।
আরেক সেবাগ্রহীতা আতিয়ার রহমান বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেলমেট পরে কাজ করতে হচ্ছে—এটাই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রমাণ। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, অনেকদিন ধরে ভবনটির এমন অবস্থা। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষ আসে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে।
