logo

মৃত আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

মৃত আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট
আবুল খয়ের ইসরাইল। ছবি : পারিবারিক সূত্রে পাওয়া

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিন মাস পর এক প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার আসামি আবুল খয়ের ইসরাইল উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল মারা যান। অথচ তার মৃত্যুর তিন মাস পর, ৩১ জুলাই দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে ৫৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মোট ৭৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে জগন্নাথপুর থানা-পুলিশ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর এম এ মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নুর মীরপুর বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়।

তবে মামলার এজাহারে আশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল খয়ের ইসরাইলের নাম ছিল না। পরে তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে ৫৬ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের প্রায় তিন মাস আগে মারা যান।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এজাহারের এক নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের (৭৫) হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তদন্তে তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ৭৯ জন আসামির মধ্যে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, মামলার বাদীর এজাহার ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে আমরা আদালতকে অবহিত করব।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট