logo

‘তারা আমার সঙ্গে যা-তা আচরণ করেছে, মনে হলো আমি একজন পশু’

‘তারা আমার সঙ্গে যা-তা আচরণ করেছে, মনে হলো আমি একজন পশু’

‎‎সাভারের নিউমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আড়ংয়ের শোরুমে রুবেল রানা নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রবেশে বাধা ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে হওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

জানা গেছে, ওই শোরুমের ম্যানেজার তাকে হুইলচেয়ার নিয়ে প্রবেশে নিষেধ করেন। পরে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান সেখানকার দায়িত্বরত দুজন কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী রুবেল।

ভিডিওতে দেখা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী রুবেল হুইলচেয়ারে করে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে আড়ংয়ের শোরুমে ঢুকতে যান। তখন তাকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আড়ংয়ের বাঁধন ও মিনাল নামের দুজন কর্মী বাধা দেন এবং তার ওপর চড়াও হয়ে তর্কবিতর্ক করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী রুবেল রানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি আমার ও বাচ্চার জন্য এবং ভাগিনার জন্য পাঞ্জাবি কেনার উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে গিয়েছিলাম সাভার আড়ংয়ে। প্রথমে আড়ংয়ের গেটে গেলে ভেতর থেকে ম্যানেজার এসে আমাকে বাধা দিয়ে বলেন, ‘ভেতরে ঢোকা যাবে না।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক লোকজন, হুইলচেয়ার নিয়ে ঢুকলে সমস্যা হবে।’ এ সময় আমি কী কিনব, সব খুলে বলার পরও তিনি আমাকে ঢুকতে দেননি। পরে শোরুমের দুজন কর্মী এসে আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। তারা বলে আমি গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারব না। আমি বলি গাড়ি ছাড়া তো আমি চলতে পারব না। তারা কোনোভাবেই মানতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, আমি বলি শপিং করা আমার অধিকার। এই অধিকারে তারা বাধা দিতে পারে না। তাই বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে তারা আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। আমার হুইলচেয়ারে ধাক্কা দিলে আমি চরম অপমান বোধ করি। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারতে তেড়ে আসে। তখন আমি তাদের বলি, মারলে মারেন, তবু কেন ঢুকতে পারব না, তার সঠিক জবাব চাই। তখন আমি ফেসবুক লাইভে চলে আসি।

দুঃখ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রুবেল রানা বলেন, আমি খুব কষ্ট পেয়েছি যে আমার সঙ্গে অমানবিক ব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত থাকা কেউ প্রতিবাদ করল না। শোরুমের কর্মীরা আমার সঙ্গে যা-তা আচরণ করেছে। আমার মনে হচ্ছিল আমি একজন পশু। আমরা মতো শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য অপমানজনক।

তিনি আরও বলেন, আমার ফেসবুক লাইভ ভাইরাল হলে আড়ংয়ের অফিস থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আমাকে বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাভার আড়ং শোরুমের অনলাইনে দেওয়া নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন ধরেননি। পরে ঘটনার বিষয়ে জানিয়ে ওই নম্বরে মেসেজ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পেলে সংবাদে সংযোজন করে দেওয়া হবে।