শিশু আতিকা হত্যা মামলায় কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠালেন আদালত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় শিশু আতিকা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ কিশোর আদালতের মাধ্যমে তাকে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতে তোলা হলে ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোর বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন। গ্রেপ্তার কিশোর বনপারিল গ্রামের গণপিটুনিতে নিহত পান্নু মিয়ার ছেলে।
এদিকে, নিহত শিশুর কানের দুল কেনার অভিযোগে স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি প্রবাসী দুদল মিয়ার সাত বছর বয়সি মেয়ে আতিকা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, শিশুটির হাত-পা বেঁধে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে রেখে স্বর্ণের দুল নিয়ে যায়। পরে রাতের দিকে ওই ক্ষেত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে কিশোরের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলুর রহমান নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বড় ভাই নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় শনিবার নিহত শিশুর মা আরিফা আক্তার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রেপ্তার কিশোর ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কিশোর জানায়, শিশুটির স্বর্ণের দুল ভাড়ারিয়া বাজারের এক দোকানির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে ওই দোকানি নিত্য কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গণপিটুনিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।