logo
Advertisement

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের ২০ আস্তানা ধ্বংস, অপহৃত কিশোর উদ্ধার

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের ২০ আস্তানা ধ্বংস, অপহৃত কিশোর উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির অভিযান। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজারের টেকনাফে সাঁড়াশি অভিযানে মানবপাচারকারীদের ২০টি পাহাড়ি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যৌথ অভিযানে সাগরপথে পাচারের উদ্দেশ্যে চকরিয়া থেকে অপহৃত ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরকে উদ্ধার এবং মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়ন থেকে শাহরিয়া নোমান নাঈম (১৬) নামের এক কিশোরকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে টেকনাফের পাহাড়ি রাজারছড়া এলাকার একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কিশোরটিকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আস্তানা থেকে পাচারকারী চক্রের সদস্য তৌহিদুল আলম (২২) ও আবু ছাদেককে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া দুই দালালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার হওয়া কিশোরের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজারছড়া ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে মানবপাচারকারীদের একাধিক নেটওয়ার্ক ও গোপন আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশ ও টেকনাফ-২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। তিন ঘণ্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযানে পাচারকারীদের ব্যবহৃত ২০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে আবারও মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের বড় ধরনের একটি আস্তানা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণ রোধে টেকনাফের সীমান্ত ও উপকূলজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।