logo
Advertisement

কক্সবাজার চান্দের গাড়ি ও মালবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার
কক্সবাজার চান্দের গাড়ি ও মালবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮
উল্টে যাওয়া চান্দের গাড়ি ও মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পর্যটকবাহী একটি চান্দের গাড়ি ও মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়ির ড্রাইভার পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরানপাড়া এলাকা সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা ডিআই ওয়ান পরিদর্শক মিলনের পরিবারের সদস্যরা পর্যটকবাহী একটি চান্দের গাড়িতে করে টেকনাফ ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণ শেষে তারা মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাহারছড়ার পুরানপাড়া এলাকা সংলগ্ন স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর পর্যটকবাহী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পশ্চিম পাশে ঝাউ বাগানের দিকে উল্টে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করে। আহতদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ পরিদর্শক মিলনের বড় ভাই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী বাহারছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েতুল্লাহ জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষের পর পর্যটকবাহী গাড়িটি উল্টে ঝাউবাগানের দিকে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা ৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান মিয়া এশিয়া পোস্টকে জানান, পর্যটকবাহী চান্দের গাড়িটি টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। বাহারছড়ার পুরানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ঝাউবাগানে উল্টে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ পরিদর্শক মিলনের বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া ও অদক্ষভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। পর্যটকদের বহনকারী বিভিন্ন যানবাহন, মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেক সময় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। মেরিন ড্রাইভে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের দক্ষতা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে হবে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য পর্যটক এ সড়ক দিয়ে টেকনাফ ও কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। তাই দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।