logo
Advertisement

মানিকগঞ্জে পাঁচ ইউপিতে ৩ বছর ধরে অডিট নেই

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
মানিকগঞ্জ, ঢাকা
মানিকগঞ্জে পাঁচ ইউপিতে ৩ বছর ধরে অডিট নেই
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আসছে না। আটিগ্রাম, গড়পাড়া, কৃষ্ণপুর, জাগীর ও দিঘী ইউনিয়ন পরিষদে বিগত তিন বছর ধরে কোনো অডিট (হিসাব নিরীক্ষা) হয়নি। এসব পরিষদে সর্বশেষ অডিট সম্পন্ন হয়েছিল ২০২২ ও ২০২৩ সালে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বরাদ্দ ও নিজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তদারকি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের দেওয়া তথ্যমতে, সর্বশেষ অডিটের পর কোনো নিরীক্ষা দল আর এসব পরিষদে যায়নি। অডিট বন্ধ থাকার সুনির্দিষ্ট কারণও পরিষদগুলোর জানা নেই।

জাগীর ইউনিয়ন পরিষদে সবশেষ ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবরে অডিট হয়। এছাড়া দিঘী ইউনিয়ন পরিষদে ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর, আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর এবং কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সর্বশেষ অডিট সম্পন্ন হয় ২০২৩ সালে।

ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, হাট-বাজার ইজারা ও বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আয় হয়। আবার স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পেও সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব অর্থের আয়-ব্যয় ও ব্যবহারের হিসাব যাচাইয়ের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অডিট। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অডিট না হওয়ায় ওই সময়ের পুরো আর্থিক কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান মাসুদুর রহমান বলেন, তাদের পরিষদের সর্বশেষ অডিট হয়েছে ২০২২ সালে। এরপর কোনো অডিট কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অডিট না হওয়ার কারণ সরকারই ভালো বলতে পারবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার পরিবর্তনের কারণে অডিট কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উচ্চতর কোনো দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় হিসাব যাচাই-বাছাই করা সম্ভব। এখন পর্যন্ত তার চোখে কোনো আর্থিক গরমিল ধরা পড়েনি। তবে অডিট না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের অবস্থানও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খান বলেন, কোন ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ কবে অডিট হয়েছে এবং এরপর কেন অডিট হয়নি, তা আগে যাচাই করে দেখতে হবে। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের অডিট তাদের দপ্তর সরাসরি করে না। অডিটের জন্য আলাদা দপ্তর রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সময় নির্ধারণ করে অডিট সম্পন্ন করেন।

অডিট না হওয়া ইউনিয়নগুলোর আর্থিক হিসাবের ওপর বিশেষ নজরদারি আছে কি না—জানতে চাইলে উপপরিচালক বলেন, বিষয়টি না দেখে এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সর্বশেষ কোন সময় পর্যন্ত অডিট হয়েছে, এরপর কী হয়েছে এবং কেন অডিট হচ্ছে না, তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের অডিট বাকি রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অডিট সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অডিটের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।