বিপৎসীমার কাছে পদ্মা-যমুনার পানি, তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা ফসলি জমি

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে পাবনার পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে পাবনার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে আগাম জাতের ফসল ও সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা, ডিগ্রীর চর, দাদাপুর, চর কুড়ুলিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং সদর উপজেলার চর ভবানীপুর ও শানিকদিয়া, বেড়ার রুপপুর, ঢালারচর, মাসুমদিয়া এলাকার হাজারো বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে ফসলের মাঠে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি আবাদ করে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক জমি তলিয়ে গেছে। এতে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে আবাদ করার সুযোগও কমে যাচ্ছে। পানি আরও বাড়লে অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলের এক কৃষক বলেন, জমিতে ফসল ভালোই হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যে পানি এভাবে বাড়বে, তা ভাবতে পারিনি। এখন জমির বেশির ভাগই পানির নিচে। পানি আরও বাড়লে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।
অন্যদিকে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৯৫ মিটার।
নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা ও ফসলি জমি প্লাবিত হতে পারে। এতে কৃষির পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, ফসল রক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে দ্রুত সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এখন পর্যন্ত প্লাবিত ফসলি জমির পরিমাণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রশাসনের হাতে আসেনি। তবে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ টন জিআর চাল, ৩০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং নগদ সহায়তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দুর্যোগ-সংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

