খুলনায় চাহিদার চেয়ে ৪ লাখ বেশি কোরবানির পশু

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে খামারিরা প্রস্তুত করেছেন ১৪ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি গবাদিপশু, যা চাহিদার তুলনায় ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি। হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করবে ১৪২টি পশু চিকিৎসা দল।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এসব হাট স্থাপন করছে। এর মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত নগরের জোড়াগেট পশুর হাটসহ খুলনা জেলায় বসছে অন্তত ২৭টি হাট। এ ছাড়া বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় আটটি এবং মেহেরপুরে ছয়টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
ঈদুল আজহাকে ঘিরে গবাদিপশু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে পশু আনতে শুরু করেছেন। খুলনা নগরের জোড়াগেট পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাট শুরুর প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। কয়েকজন পশু ব্যবসায়ীকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। হাটসংশ্লিষ্টরা জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নদী ও সড়কপথে পশু আনা হয় এ হাটে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি গরু, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং ২১৬টি অন্যান্য প্রাণী। গত বছর খুলনা বিভাগে ১৬৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল। তখন ১০ লাখ ৪৬ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কোরবানির পশু পালন করা হয়। এর মধ্যে ১১ লাখের বেশি পশু বিক্রি হয়েছিল।
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয়ভাবে পালিত পশু দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি। খামারিরা ঈদ সামনে রেখে ১৪ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন, যা চাহিদার তুলনায় ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।
