logo

ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নারায়ণগঞ্জ
ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মো. জোবায়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসি এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগও তোলেন তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় জোবায়ের বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৭ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোববার সন্ধ্যায় জোবায়েরের মরদেহ বন্দর এলাকায় পৌঁছালে এলাকার সকল স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবেশী ও স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানার সামনে জড়ো হন। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

মো. জোবায়ের। ছবি: সংগৃহীত
মো. জোবায়ের। ছবি: সংগৃহীত

নিহত মো. জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জোবায়ের স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে বন্দর থানার এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এ বিষয়ে বন্দর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এসে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের আশ্বাসে তারা ঘরে ফিরে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদীর কাছে যানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আগে কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কোনো মামলা না থাকায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করলে সেটি মামলা রেকর্ড হবে, ওই মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলা করতে এসে ফিরে গেছে—এমন কোনো তথ্য আমরা এখনো পাইনি, যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের পুলিশ সদস্যর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শককে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।