logo

ধামরাই/বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মহিলা দল নেত্রীর

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মহিলা দল নেত্রীর
ফরিদা ইয়াসমিন ও এইচ এম রুস্তম আলী। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ঢাকার ধামরাইয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগে গত আগস্টে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি মামলাটি করেন। মামলায় সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. মামুনুর রশিদ, মেরিনা আক্তার বিনা ও আয়েশা আক্তার ডলিসহ আরও ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ফরিদা ইয়াসমিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ধামরাই থানা শাখার সভাপতি মনোনীত হন। এরপর ২ জুলাই বিকেলে বানেশ্বর থেকে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে চরডাউটিয়া মোড় এলাকায় এইচ এম রুস্তম আলীসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন।

বাদীর অভিযোগ, মহিলা দলের সভাপতির পদ পেতে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ওই সময় রুস্তম আলী তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলীয় পদ কীভাবে বহাল থাকে, তা দেখে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে ফরিদা ইয়াসমিনকে ফোন করে প্রাণনাশ, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ না করলে অপমান ও লাঞ্ছিত করার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিনকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাদীর পক্ষে এক সাংবাদিক ওই নম্বরে ফোন করলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এর প্রায় ২৫ মিনিট পর রাত ৯টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬-৭ জন ব্যক্তি ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়িতে যান। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী। এ সময় তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দলীয় পদ পাওয়ার পর থেকেই আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে হুমকি, হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুকেও আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, এসব ঘটনায় মামলা করতে পরদিন ধামরাই থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি এইচ এম রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ফরিদা ইয়াসমিন কৃষিকার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে এলাকায় চাঁদা তুলছেন। উল্টো আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করেছেন। রাজনৈতিকভাবে আমার সম্মান নষ্ট ও লোকসমাজে হেয় করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।