শ্রুতিলেখক নিয়ে নীতিমালার দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তায় মেধাবী মানহার বৃত্তি পরীক্ষা

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আবৃত্তি, গান ও কুইজে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় একশ পুরস্কার জিতেছে ইউসরা মানহা। তবে আসন্ন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। শ্রুতিলেখক নিয়োগ নিয়ে দুই নীতিমালার দ্বন্দ্বে আটকে গেছে পুরো বিষয়টি।
যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মানহা যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আসকার সালমান ও সুমনা ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সে সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
মানহার বাবা জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায় এক মাস আগে শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করা হয়। তবে আবেদনটি গ্রহণ করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
তার দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক সেবা গ্রহণসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য শ্রুতিলেখক হিসেবে একজন শিক্ষককে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নীতিমালায় ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’-এর আলোকে পরীক্ষায় সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলা আছে।
কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬’ দেখিয়ে জানায়, শ্রুতিলেখক হিসেবে চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে নিতে হবে।
এ বিষয়ে আসকার সালমান বলেন, চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যে সদ্য তৃতীয় শ্রেণি পাস করেছে সে কীভাবে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বুঝে লিখবে? তার ভাষা ও মানসিক পরিপক্বতা কি যথেষ্ট? তিনি আরও বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী শিক্ষককে শ্রুতিলেখক হিসেবে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
মানহার মা সুমনা ফেরদৌস বলেন, প্রায় এক মাস ধরে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। শুধু মানহা নয়, আরও অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী একই সমস্যায় পড়ছে। তিনি দ্রুত সমাধানের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম আলমগীর কবির বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ীই সব কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিণ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ অনুযায়ী সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এটি একজন প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টির সমাধান জরুরি।