উজানের ঢলে তছনছ কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর, ভেসে গেছে ফসল ও মাছের ঘের

উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, ফসলিজমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবেষ্টিত ও নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়। তবে ৭-৮ ঘণ্টা পর পানি নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠতে শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারি এবং দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্দউষান গ্রাম দ্রুত তলিয়ে যায়। আচমকা পানি বাড়তে থাকায় লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আমন ধানের বীজতলা, সবজিখেত, পুকুর ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের জমিতে পলি জমে আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
খারনৈ ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পাহাড়ি ঢল তাদের জন্য নতুন নয়, প্রায় প্রতি বছরই এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে এবার পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও গৃহস্থালি জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরাতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে আবহাওয়া ও উজানের ঢল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে বৃষ্টি বা ঢল নামলে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্গত পরিবারগুলোকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নদী ও বন্যা ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
.png)






