অভিযুক্ত বিএনপি নেতার পক্ষে মানববন্ধন, নির্যাতিত নারীকে এলাকা ছাড়তে হুমকি

বরগুনার পাথরঘাটায় বিএনপি নেতার তদারকিতে এক নারীকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা (মিসকেস) রুজু করেছেন আদালত। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নিজলাঠিমারা এলাকায় ওই বিএনপি নেতার অনুসারীরা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন থেকে নির্যাতিত ওই নারীকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নারীকে নির্যাতনের ভিডিও এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত সোমবার পাথরঘাটা আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ এই মামলা রুজুর আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করতে দেখা গেছে। এ সময় নারীর কোলের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক। আদালত প্রাথমিকভাবে একে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারা এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও এবং সংবাদপত্রের কপি সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর বুধবার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় অভিযুক্তদের সমর্থনে একটি মানববন্ধন করা হয়। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ছগির আলমের সমর্থনে আয়োজিত এই মানববন্ধন থেকে প্রকাশ্যে ওই নারীকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন দুলাল খন্দকার নামে এক স্থানীয়। আর আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক।
ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাকে অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এখন আবার প্রকাশ্যে আমাকে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এমন ঘটনায় এলাকার অনেকে নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় সমাজ উন্নয়নকর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এটি কোনো মগের মুল্লুক হতে পারে না। কোনো অপরাধের বিচার করার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। কোনো জনপ্রতিনিধি বা তার সমর্থকদের অধিকার নেই একজন মানুষকে এলাকা ছাড়া করার।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ছগির আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত চলছে। ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গত ১ মার্চ রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারীকে বেঁধে রাখা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীর তিন মাসের শিশু সন্তানটি অনবরত কাঁদছে এবং মায়ের কোল থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে নারীর হাত-পা বাঁধা হচ্ছে। এ সময় সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছগির আলম পুরো বিষয়টি তদারকি করেন।