logo
Advertisement

নিখোঁজের ৩ দিন পর বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
ভোলা, বরিশাল
নিখোঁজের ৩ দিন পর বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
নদীর তীরে জিও ব্যাগসহ পাড় ধসে নদীতে পড়ে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য আমজাদের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভোলায় মেঘনা নদীর তীরে জিও ব্যাগসহ পাড় ধসে নদীতে পড়ে নিখোঁজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. আমজাদের (২৮) মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর থেকে স্থানীয় জেলেরা ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে দৌলতখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ বিজিবি সদস্য আমজাদের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত আমজাদ ভোলা পৌরসভার কালীবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা বিজিবি সদস্য মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি আমজাদের বলে শনাক্ত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগতির একটি চর থেকে নিখোঁজ আমজাদের বন্ধু রাকিব আহমেদের (১৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমজাদের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধুরই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্পন্ন হলো।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ খ্যাত মেঘনা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আমজাদ ও রাকিবসহ পাঁচজন। এ সময় জিও ব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি অংশ ধসে তারা নদীতে পড়ে যান।

পাঁচ বন্ধুর মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন। এরপর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে রাকিবের মরদেহ এবং একদিন পর আমজাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

আমজাদের স্বজনরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।

আমজাদের বাবা বিজিবি সদস্য মো. ইব্রাহিম বলেন, আমজাদ আমার আদরের ছেলে ছিল। ওর বউ সন্তানসম্ভবা থাকায় দুই মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল। আর সাত দিন পরই ছুটি শেষে চাকরিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এখন দেখি, জীবনের তরে ছুটি নিয়ে ফেলেছে বাবা আমার। শেষবারের মতো ছেলেকে দেখে মাটি দিতে পারব, এই সান্ত্বনা নিয়েই আজীবন বেঁচে থাকতে হবে আমাদের।