Advertisement

বাঙালি নদীর ভাঙন ঝুঁকিতে ২৮ কোটি টাকার ত্রিমোহনী সেতু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
বাঙালি নদীর ভাঙন ঝুঁকিতে ২৮ কোটি টাকার ত্রিমোহনী সেতু
স্রোতের তীব্রতা বেড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় নদনদীর পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। জেলার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদনদীর ভাঙনে দিশেহারা উপকূলীয় মানুষ। এদিকে বাঙালি নদীর প্রবল ভাঙনে সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির ‘ত্রিমোহনী সেতু’ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জেলা সদরের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমাতে বাঙালি নদীর ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬০.৪০ মিটার দীর্ঘ ত্রিমোহনী সেতু নির্মাণ করে। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত চরগুলোতে পানি অনেকটাই কমছে। তবে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে তীব্র আকারে। গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার সংযোগ সেতু ত্রিমোহনী সেতুর পাশেই শুরু হয়েছে এই নদীভাঙন।

ত্রিমোহনী সেতুর পাশের বসতবাড়ির বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সি শিউলি বেগম বলেন, রাত হলে ঘুম আসে না, কখন যেন ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়! কত লোক আসে-যায়, কিন্তু কেউ তো খোঁজ নেয় না। কেউ তো একবারও নদী বাঁধার কথা বলল না! আমরা মহা বিপদে আছি।

রামনগর গ্রামের মকবুল ইসলাম জানান, বাঙালি নদীর ত্রিমোহনী ঘাট এলাকায় ব্লক বসানো হয়নি। ফলে সেখানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। যে কোনো সময় স্রোতের তোড়ে সেতুটির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

একই গ্রামের মোকছেদুর রহমান বলেন, গত ১০-১৫ বছরে বাঙালি নদীর ভাঙনে রামনগর গ্রামের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে সরকারিভাবে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ত্রিমোহনী সেতুর পাশের ২০০ মিটারে কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এখন সেতুটিই হুমকির মুখে। এ ছাড়া ভাঙনের কারণে এই গ্রামের একটি রাস্তাসহ সেতুর সংযোগ সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, হাবিজার রহমান ও আব্দুল মতিন জানান, কয়েক মাস ধরেই এই সেতু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় পানির তোড়ে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। রাস্তাটি ভেঙে গেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সঙ্গে বোনারপাড়া ও কচুয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

কচুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, ত্রিমোহনী সেতুর দুই পাশেই পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক বসিয়েছে। তবে গত সাত বছরেও সেতুর নিচের অংশ বা সংলগ্ন এলাকায় সিসি ব্লক কিংবা জিওব্যাগ না ফেলার কারণে সেখানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, ত্রিমোহনী সেতু সংলগ্ন রামনগর গ্রামের ভাঙনের বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে অবগত করব।

কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার বলেন, সেতু সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতুর সংযোগ সড়কটি যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া (সুন্দরগঞ্জ) পয়েন্টে পানি ১২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১২১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৩ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে ৬৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২৯৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ জানান, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে।