ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: বিতর্কের মুখে নতুন তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিতর্কের মুখে আগের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক জরুরি বৈঠকে এ নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটন, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (দক্ষিণ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খন্দকার মো. আনোয়ার হোসেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আলোচনায় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, অগ্নিকাণ্ডের দিন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটিরও সভাপতি করা হয়েছিল অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। অন্য সদস্যরা ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, নেত্রকোনার কেন্দুয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মো. মাজেদুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। হাসপাতালের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম তদন্ত কমিটিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাসকে রাখা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত কমিটিতে রাখায় তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সচেতন মহলের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যেই আগের কমিটি বাতিল করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় লিফট কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


-cbcf22.jpg)