সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

সুন্দরবনে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলা ও বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতি ও বিষ বিক্রেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) এবং বিষ বিক্রেতা মো. সেলিম মিয়া (৫২)। তাদের মধ্যে সোহেল ও লাইজুর বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল শেখ ও তার স্ত্রী লাইজু বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ শিকারের জন্য বিষ কেনার তথ্য দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এরপর একই রাতে সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে দাকোপ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খালে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে টহল দেওয়ার সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করতে যান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান ও নৌকার চালক মো. এরশাদ আলী আহত হন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোহেল শেখ ধারালো দা দিয়ে নৌকার চালক এরশাদ আলীকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বৈঠা দিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে মতিউর রহমানের ডান হাত আহত হয়।
এ ঘটনায় জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ, তার স্ত্রী লাইজু বেগম, ইউনুস আলী (৩৮) ও নূপুর খী (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। তাদের সবার বাড়ি মোংলার জয়মনি এলাকায়। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বনকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পর পুলিশ ও বন বিভাগ বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালায়।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সতর্ক করেছি, আবারও করছি। সুন্দরবনে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

