logo

রাঙামাটিতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, চারজনের চিকিৎসা এক ভায়ালে

রাঙামাটিতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, চারজনের চিকিৎসা এক ভায়ালে
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চরম সংকট। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ চার মাস ধরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা হাসপাতালে এলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। বিনামূল্যের সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে ভ্যাকসিন। যা গরিব রোগীদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (৪ মে) সকালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ভ্যাকসিনের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে তারাও। ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন সংকট। আগে আক্রান্তদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার হলেও গত তিন মাস ধরে বন্ধ এই সেবা। ফলে সংকটে নিরুপায় হয়ে ৪ জন মিলে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন কেউ কেউ। তাতে পকেট থেকে যাচ্ছে বাড়তি টাকা। সরকারি ভ্যাকসিনের সংকটে সেবার বদলে চরম ভোগান্তি, হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

ভ্যাকসিন নিতে আসা শোভা রানী চাকমা বলেন, বাসার বিড়ালের নখের আঁচড় লেগেছে। হাসপাতালে এসে জানলাম ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসলে তারা দিয়ে দেবে।

ভ্যাকসিন নিতে আসা আরেক রোগী মো. রবিউল আলম বলেন, এটি আমার দ্বিতীয় ডোজ। এর আগেরবারও চারজন মিলে ভ্যাকসিন দিয়েছি। আজও মানুষের জন্য অপেক্ষা করছি।

তাসলিমা বেগম বলেন, আগে সরকারিভাবে দেওয়া হলেও এখন কিনে নিতে হচ্ছে। কেনা সম্ভব নয় বলেই সরকারি হাসপাতালে আসা। তাও যদি টাকা দিয়ে কিনতে হয় তাহলে আমরা গরিব মানুষ কোথায় যাব।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিখিল প্রিয় চাকমা এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভ্যাকসিন ঢাকা থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তবে এই বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি জেলার সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা।

হাসপাতালের তথ্যমতে, জেলা ও জেলার বাহির থেকে মাসে প্রায় ১ হাজার রোগী ভ্যাকসিন নিতে ভিড় করেন।