খরচ বাড়ছে, আয় কমছে—পেশা ছাড়ছেন গাড়িয়ালরা

কুড়িগ্রামের গ্রামবাংলায় একসময় কৃষিকাজ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের প্রধান ভরসা ছিল গরু ও মহিষের গাড়ি। ধীরগতির এই বাহনের চাকার শব্দ ছিল গ্রামীণ জীবনের পরিচিত সুর। সময়ের পরিবর্তনে এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
একসময় মাঠের ফসল ঘরে তোলা, হাট-বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া, এমনকি বিয়ের শোভাযাত্রাও হতো গরুর গাড়িতে। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা এই বাহনটি ছিল মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে মাত্র সাত থেকে আটটি গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে আছে। একসময় দুই চাকার এই গাড়িই ছিল প্রধান অবলম্বন। কিন্তু এখন ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের মতো আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে এটি হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি গরুর গাড়ি তৈরি করতে এখন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশাটি ছাড়ার কথা ভাবছেন।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের প্রবীণ মো. মহসিন আলী ও সাদু ব্যাপারি বলেন, একসময় তাদের নিজেদেরও গরুর গাড়ি ছিল। সেগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য ও বাজারের মালামাল পরিবহন করতেন। এখন আর তেমন গাড়ি চোখে পড়ে না।
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার গাড়িয়াল পাড়ার মহিষের গাড়িচালক মো. হবি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় থাকলেও এখন আর আগের মতো আয় নেই। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হলেও আয় খুব কম। তাই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক বলেন, গরুর গাড়ি এই অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাস উদ্দিন একসময় গরুর গাড়িতে করে এলাকা ঘুরেছেন। তার গাওয়া ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারির বন্দরে’ গানটি আজও মানুষের মনে বেঁচে আছে। কিন্তু সেই গরুর গাড়িই এখন বিলুপ্তির পথে।