ঠাকুরগাঁওয়ে মিড-ডে মিলের ডিম খেয়ে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পলাশবাড়ী মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ডিম খেয়ে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিম খাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো তদারকি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পলাশবাড়ী মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনি আক্তার বলে, দুপুরে ডিম খাওয়ার পর পেটব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি স্যারকে জানালে তিনি আমাদের ৩০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
আরেক শিক্ষার্থী নাজমা বলে, ডিমটায় গন্ধ ছিল। তাও আমরা সবাই খেয়েছি। তারপর সবার পেটব্যথা শুরু হলে স্যার আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
মালেক নামে এক অভিভাবক বলেন, মাত্র দুই দিন আগেই তিনটি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আজ আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। এভাবে তো বাচ্চাদের স্কুলের খাবার খেতে দেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
আরেক অভিভাবক আকাশ আলী প্রশ্ন তুলে বলেন, কেন বারবার এমন হচ্ছে? বাচ্চাদের নিম্নমানের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। আমি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-ঘটনাটি তদন্ত করে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহাদুজ্জামান সজীব জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীরা ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর অসুস্থতার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
