logo

‘দেখার হাওরে’ ভেঙেছে বাঁধ, ধান রক্ষায় কৃষকের লড়াই

‘দেখার হাওরে’ ভেঙেছে বাঁধ, ধান রক্ষায় কৃষকের লড়াই

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের একটি অংশের বোরো ফসল স্থানীয় কৃষকদের আপ্রাণ চেষ্টায় রক্ষা পেয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে হঠাৎ করে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে গেলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করে পানি প্রবাহ বন্ধ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মহাসিং নদী ও হাওরের পূর্ব অংশের পানির চাপে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর-মদনপুর গ্রামের পূর্ব দিকের গুজাউনি বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে হাওরের পূর্ব অংশের পানি দ্রুত পশ্চিম দিকে ঢুকে পড়ে। এতে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর, মদনপুর এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, পার্বতীপুর, সুলতানপুর, আস্তমা ও কাইক্কারপাড়সহ আশপাশের গ্রামের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা বাঁশ পুঁতে ও মাটি ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধটি মেরামতের কাজে নেমে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১টার দিকে বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয় এবং পানি প্রবাহ বন্ধ হয়।

কৃষকরা জানান, দেখার হাওরের পানি নিষ্কাশনের পথে উতারিয়া-পাথারিয়া এলাকায় উঁচু বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি বের হতে না পেরে জমে ছিল। এর চাপেই গুজাউনি বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ঝুঁকিতে পড়ে।

মদনপুর গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া বলেন, ‘বাঁধটি ভেঙে গেলে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ধান তলিয়ে যেত। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে দুপুরের মধ্যে বাঁধটি রক্ষা করেছি। তবে ইতোমধ্যে কিছু জমিতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।’

গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহিনুর রহমান বলেন, ‘মহাসিং নদীর উতারিয়া-পাতারিয়া এলাকায় উঁচু বাঁধ দেওয়ায় পানি চাপ সৃষ্টি করে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় কৃষকদের দ্রুত উদ্যোগে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, এটি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নয়, অভ্যন্তরীণ একটি বাঁধ। পানির চাপে এটি ভেঙে গিয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে জিও ব্যাগ পাঠানো হয় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে। হাওরে যেটুকু পানি ঢুকেছে, তাতে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, দেখার হাওরে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।