নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোনাইমুড়ীর ফয়েজিয়া এতিমখানার অনিয়ম-দুর্নীতি ও এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক নোয়াখালীর কথার স্টাফ রিপোর্টার গোলজার হানিফ ও দৈনিক ভোরের চেতনার সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান। ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম মো. শফিকুর রহমানসহ একদল লোক এ হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হামলার সময় সাংবাদিকদের সপরিবারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অভিযোগ রেখে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ‘চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টার’-এর সিসিটিভি ফুটেজ এখনও সংগ্রহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা করতে গেলে সোনাইমুড়ী থানার ওসি মামলা না নিয়ে অভিযোগ রেখে দিয়েছেন। চার দিনেও মামলা গ্রহণ না করে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই চাঁদাবাজির অভিযোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাসির উদ্দিন বাদল আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত মামলা গ্রহণ ও হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বিষাদ, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, এ আর আজাদ সোহেল, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি, এশিয়ান পোস্টের জেলা প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঞা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রাজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, কারও অভিযোগ নেওয়া হয়নি—এটা ঠিক নয়। ওই সাংবাদিক তিন দিন আগে থানায় একটি অভিযোগ দিয়ে গেছেন। সেদিন আওয়ামী লীগের একটি মিছিল নিয়ে সারা দিন ব্যস্ত ছিলাম। অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি আর থানায় আসেননি। প্রতিপক্ষের রেস্টুরেন্ট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ করতে থানায় আসলেও তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, থানা থেকে ফোন করার পরও তিনি আসেননি। আমার একজন এসআইকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই এসআই ফোন করার পরও তিনি থানায় আসেননি। সর্বশেষ তাকে থানায় এসে এজাহার দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মানববন্ধন করার আগে কোনো সাংবাদিক আমার সঙ্গে কথা বলেননি। মানববন্ধন হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। বিষয়টি আমার জন্য দুঃখজনক।
