ধামরাইয়ে মারধরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, স্বামী আটক

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে পপি রানী সরকার নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রানীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা পপির স্বামী লিটনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের গোমগ্রাম এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক লিটন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি প্রতিনিয়ত দুই সন্তানের জননী পপি রানীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
রোববার দুপুরের দিকে পারিবারিক কলহের জেরে সাত বছরের শিশুসন্তানের সামনেই পপি রানীকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন লিটন। একপর্যায়ে পপি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে বাইরে চলে যান লিটন।
পরে পপির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সন্ধ্যার দিকে লিটন নিজেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পপি রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। পপির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর লিটনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা পরিমল সরকার বলেন, ‘আমার মেয়েকে লিটন প্রায়ই মারধর করত। এর আগে মারতে মারতে একটি ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়েছিল। আমি কতবার মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছি। পরে এসে পা ধরে মাফ চেয়ে আবার নিয়ে যেত। আজকে আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমরা সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে জামাইবাড়ি গিয়ে দেখি আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই।’
ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকারকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
.png)


