আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে এলে ভিজিট ফি অর্ধেক!

ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন পটুয়াখালীর চিকিৎসক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দীর্ঘ দিনের সমর্থক এই চিকিৎসক ঘোষণা দিয়েছেন–বিশ্বকাপ চলাকালে তার চেম্বারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভিজিট ফি নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ডা. হাবিবুর রহমান জানান, তার চেম্বার পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত গ্রিনভিউ হাসপাতালে। বর্তমানে তার নিয়মিত ভিজিট ফি ৬০০ টাকা। তবে এই বিশেষ অফারের আওতায় আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা রোগীদের জন্য ফি হবে ৩০০ টাকা।
ঘোষণাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই এটিকে বিশ্বকাপ উন্মাদনার আনন্দঘন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ চিকিৎসাসেবার সঙ্গে ফুটবলপ্রেমকে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে অভিনব ও ব্যতিক্রমী বলে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে ডা. হাবিবুর রহমান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যথা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
চিকিৎসকের এমন ঘোষণায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেও বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি শেয়ার করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা সাকিল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে নানা ধরনের অফার দেখা গেলেও কোনো চিকিৎসকের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী।
আরেক সমর্থক জুবায়ের আহম্মেদ বলেন, আমি নিজেও আর্জেন্টিনার ভক্ত। ডাক্তারের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং বিশ্বকাপের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বিশ্বকাপেও ডা. হাবিবুর রহমান আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য দুটি খাসি জবাই করে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, সেই আনন্দকে ভিন্নভাবে উদযাপন করার ভাবনা থেকে এই উদ্যোগ। এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও আনন্দ ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শুভেচ্ছা। এতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; বরং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের একটি উপলক্ষ তৈরি হবে।
