বাগেরহাটে বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

বাগেরহাটের কচুয়ায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন–সমর্থিত গ্রুপ এবং বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম–সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে ধারাল নিয়ে দুপক্ষ নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়ায়। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জাকির হোসেন-সমর্থিত গ্রুপের মিরাজ শিকদার (৩৫), হাবিবুর শিকদার (৩৭), হোসাইন বেপারী (২৫) ও ইমরান (২৫) এবং সেলিম-সমর্থিত গ্রুপের ওসমান সরদার (৩৫) ও সালাম সরদারকে (৫৮) উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে।
আহতদের মাঝে হাবিবুর শিকদার, মিরাজ শিকদার ও ওসমান সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের খুলনায় স্থানান্তর করেছেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ইএমও ডা. শেখ আদনান হোসেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মারামারির ঘটনায় আহত কয়েকজন রোগী পরপর আমাদের হাসপাতালে আসে। যাদের আঘাত তুলনামূলক কম, তাদের এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বা সংকটাপন্ন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার্ড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাগেরহাট ও কচুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থানীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। এই দুই প্রার্থীকেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটাতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।