১৯ বার চাকরি বদল, শেষমেশ খরগোশ খামারেই ভাগ্যবদল

মাত্র ১৬ হাজার টাকা পুঁজি আর ঘরের ছোট্ট বারান্দায় তিন জোড়া খরগোশ নিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। কঠোর অধ্যবসায়, শ্রম আর দূরদর্শিতার হাত ধরে সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগই আজ রূপ নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদে। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করা শরীফুল ইসলাম খানের হাত ধরে গড়ে উঠেছে এমনই এক ব্যতিক্রমধর্মী ও বাণিজ্যিকভাবে সফল খরগোশের খামার।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাংলানগরে একটি ভাড়া বাসায় গড়ে তোলা হয়েছে তার এই খামার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এফটি রেবিট্রি বিডি’। বর্তমানে এই খামারে ১০টি ভিন্ন প্রজাতির শতাধিক খরগোশ রয়েছে। বাহারি ও বিদেশি জাতের এই খরগোশগুলো দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য দর্শনার্থী ও প্রাণিপ্রেমী। অনেকে শখ করে কিংবা বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালনের জন্য পছন্দের খরগোশ কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবন শেষে পেশাগত জীবনে থিতু হতে কম সংগ্রাম করতে হয়নি শরীফুলকে। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে গণমাধ্যম ও শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। জীবনের নানা টানাপোড়েনে প্রায় ১৯ বার চাকরি পরিবর্তন করলেও নিজের ভেতরের স্বপ্নটিকে হারিয়ে যেতে দেননি। শেষ পর্যন্ত উদ্যোক্তা হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শরীফুল ইসলাম শুধু নিজের খামার পরিচালনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা। নতুন কেউ খরগোশ পালন শুরু করতে চাইলে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করছেন তিনি।
তার এই অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল হোসেন বলেন, মাত্র ১৬ হাজার টাকার ছোট উদ্যোগ থেকে আজ প্রায় ২০ লাখ টাকার খামারে রূপান্তরের এই গল্প প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
মো. সোহেল মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই খামারটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসায় আমাদের এলাকাটি নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে। শরীফুল ভাই একজন প্রকৌশলী হয়েও কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তার এই সাফল্য এলাকার অনেক বেকার তরুণকে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করছে।
শরীফুলের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জানান, খামারটি গড়ে তোলার পেছনে পরিবারের সবার অবদান রয়েছে। শুরু থেকে প্রতিটি কঠিন ও প্রতিকূল সময়ে তারা শরীফুলের পাশে থেকে খামারের দেখভাল করেছেন। পরিবারের এই সমন্বিত সহযোগিতাই তাদের আজকের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

উদ্যোক্তা শরীফুল ইসলাম খান জানান, ছোটবেলা থেকেই পশুপাখি পালনের প্রতি তার গভীর ঝোঁক ছিল। একপর্যায়ে বিদেশি জাতের খরগোশ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সীমিত পুঁজি নিয়ে মাঠে নামেন। নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ধীরে ধীরে খামারটি বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই আমার এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি, কেউ কেউ নিরুৎসাহিতও করেছিলেন। তবে পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং নিজের আত্মবিশ্বাস আমাকে প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।






