ঝড়ে ভেঙে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার, মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত

কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া তীব্র ঝড়-বৃষ্টিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার, মসজিদ, বসতঘর, বৈদুতিক খুঁটি, রাস্তাঘাট, ফসলিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার ভেঙে খালে পড়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার মোবাইলফোন গ্রাহকরা।
এ ছাড়া উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর বাজারের সড়কে একটি গাছ উপড়ে পড়ে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদে গাছ পড়ে মসজিদের একাংশ ভেঙে গেছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার, বিভিন্ন সড়কে ভেঙে পড়া গাছ সরানোর চেষ্টা চলছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার খড়মপুর খাঁ বাড়ি, থানা এলাকা, রেলস্টেশন রোড, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকা, নারায়ণপুর এলাকায় কিছু গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে গেছে। উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়ন, উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর গ্রাম, মনিয়ন্দ ইউনিয়ন, তন্তর গ্রাম, চান্দপুর, আব্দুল্লাহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পল্লীবিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, আখাউড়ার ৩টি ফিডারে বিদ্যুৎ সররাহ বন্ধ রয়েছে। ১৫টি পোল ভেঙেছে, ১১টি হেলে পড়েছে।
আখাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, রাস্তার ও বৈদ্যুতিক তারের ওপর থেকে উপচে পড়া গাছ ও ডাল-পালা সরানোর চেষ্টা চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কাজ করছে। দ্রুত সেগুলো সরিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করা হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।