রাজিব বাসের বেপরোয়া গতিতে সড়কে ঝরল সাত প্রাণ
-332ef7-720x405.webp)
জুমার নামাজে যাওয়ার পথে চোখের সামনে দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন। বিকট শব্দে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশায় পড়ে আছেন কয়েকজন। পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে অটোরিকশা থেকে জীবিত অবস্থায় এক শিশু ও এক নারীকে উদ্ধার করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদেরও মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাস ও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ফরহাদ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, জুমার নামাজ পড়তে বের হয়েছিলাম। হেঁটে মসজিদে যাওয়ার পথে হঠাৎ দেখি দ্রুতগতিতে আসা রাজীব পরিবহনের একটি বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। তখন দেখি পাঁচজন মারা গেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় এক শিশু ও এক নারীকে বের করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারাও মারা যান।
তিনি আরও জানান, এর আগে রাজীব পরিবহনের বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব ঘটনায় বাস বা চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। তার দাবি, দুর্ঘটনাস্থলটি বেশির ভাগ সময় নিরিবিলি ও ফাঁকা থাকে। এ কারণে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোও দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, তিনিও মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষ দেখে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজন বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অটোরিকশার ভেতর থেকে মরদেহগুলো বের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের বাসটি জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তার মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তারা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দুর্ঘটনার পর আকুয়া বাইপাস সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যান চলাচল চালু করে।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি নিয়ে চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। তবে চালক ও তার সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় দেড় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন।
